রবিবার , ১১ জুলাই ২০২১ | ১০ই কার্তিক, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ
  1. অনুষ্ঠান
  2. অর্থনীতি
  3. আইন আদালত
  4. আন্তর্জাতিক
  5. করোনা সচেতনতা
  6. করোনাভাইরাস
  7. কৃষি ও প্রকৃতি
  8. খেলাধুলা
  9. গণমাধ্যম
  10. চাকরীর খবর
  11. জাতীয়
  12. টপ নিউজ
  13. টিভি Live
  14. তথ্যপ্রযুক্তি
  15. দেশ জুড়ে

কুরবানি না দিলে কি গোনাহ হবে?

প্রতিবেদক
R A S E  L ツ Rosul
জুলাই ১১, ২০২১ ৯:১০ পূর্বাহ্ণ

কুরবানি না দিলে কী হয়? কুরবানি না দেওয়ার পরিণতিই বা কী? সক্ষম ব্যক্তি কুরবানি না করলে কি গোনাহগার হবে? এ সম্পর্কে ইসলামের দিকনির্দেশনাই বা কী?

কুরবানি আত্মত্যাগের আর্থিক ও আত্মিক অন্যতম ইবাদত। এ ইবাদত প্রত্যেক হিজরি বছরের জিলহজ মাসের ১০ থেকে ১২ তারিখ সন্ধ্যা পর্যন্ত পালন করতে হয়।

‘হ্যা’ যার ওপর কুরবানি দেওয়া ওয়াজিব; ওই ব্যক্তি কুরবানি না দিলে ওয়াজিব তরকের জন্য গোনাহ হবেন। তাই পরিবারের খরচ মেটানোর পর যদি জিলহজ মাসের ১০, ১১ ও ১২ তারিখ নির্ধারিত পরিমাণ স্বর্ণ বা রুপা থাকে কিংবা নির্ধারিত পরিমাণ স্বর্ণ বা রুপার বাজার দর অনুযায়ী ৫০ হাজার থেকে ৪ লাখ টাকা থাকে ওই ব্যক্তির জন্য কুরবানি করা আবশ্যক।

সুতরাং যদি কারো কাছে কুরবানি করার মতো টাকা কিংবা সম্পদ থাকে, তবে তাকে অবশ্যই কুরবানি করতে হবে। আর যদি ওই ব্যক্তি সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও কুরবানি না করে, তবে ওই ব্যক্তির ব্যাপারে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কঠোর হুশিয়ারি ঘোষণা করেছেন। হাদিসে এসেছে-

হজরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘যার সামর্থ্য আছে তবুও সে কুরবানি করল না (অর্থাৎ কুরবানি করার সংকল্প তার নেই) সে যেন আমাদের ঈদগাহের কাছেও না আসে।’ (মুসনাদে আহমদ, মুসতাদরেকে হাকেম)

কুরবানি দেওয়া ওয়াজিব। আর ওয়াজিব তরক করা কবিরাহ বা বড় গোনাহ। সম্পদশালী ব্যক্তি যদি কুরবানি হুকুম পালন না করে তবে বড় গোনাহগার হবে।

তাছাড়া রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কুরবানি করা থেকে বিরত থাকা ব্যক্তিকে অভিসম্পাত করে বলেন যে, সে যেন ঈদগাহে না আসে। তাই কুরবানি করার মতো টাকা বা সম্পদের মালিক ব্যক্তির জন্য কুরবানি করা ওয়াজিব। যার ওপর কুরবানি ওয়াজিব সে যেন তা পালন করার মাধ্যমে ওয়াজিব তরক করার গোনাহ থেকে নিজেকে বিরত রাখে।

মনে রাখা জরুরি
যাদের ওপর কুরবানি করা ওয়াজিব; তারা কুরবানি দিলে অবশ্যই অনেক সাওয়াবের অধিকারী হবে। হাদিসের বর্ণনা থেকেই তা সুস্পষ্ট। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি কুরবানি দেয় সে কুরবানিকৃত পশুর গায়ের পশম পরিমাণ সাওয়াব পাবে।’ এ ছাড়াও হাদিসে পাকে কুরবানি দেওয়ার আরও অনেক ফজিলত বর্ণিত হয়েছে।

পক্ষান্তরে যার ওপর কুরবানি ওয়াজিব নয়, কিন্তু সে ব্যক্তিও কষ্ট করে কুরবানির ব্যবস্থা করে, তাহলে সে নফল ইবাদত হিসেবে অনেক সাওয়াবের অধিকারী হবে।

নফল ইবাদত সম্পর্কে প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বর্ণনা করেন, আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘বান্দা যত বেশি নফল ইবাদত করতে থাকে আমি তত বেশি তাকে ভালোবাসতে থাকি। ভালোবাসতে বাসতে এক সময় আমি তার চোখ হয়ে যাই যা দিয়ে সে দেখে, আমি তার কান হয়ে যাই যা দিয়ে সে শুনে, আমি তার হাত হয়ে যাই যা দিয়ে সে ধরে, আমি তার পা হয়ে যাই যা দিয়ে সে চলে।’ (সুবহানাল্লাহ!)

সুতরাং মুমিন মুসলমানের উচিত, নিসাব পরিমান টাকা বা সম্পদের মালিক হলে কুরবানি করার মাধ্যমে ওয়াজিব হুকুম যথাযথভাবে পালন করার মাধ্যমে অধিক সাওয়াবের অধিকারী হওয়া। পক্ষান্তরে ওয়াজিব কুরবানি না করার গোনাহ থেকে নিজেকে বিরত রাখা।

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহর সব নিসাব পরিমাণ সম্পদের মালিককে কুরবানি করার মাধ্যমে ওয়াজিব আমল যথাযথভাবে আদায় করার তাওফিক দান করুন। কুরবানির ফজিলত ও মর্যাদা লাভের তাওফিক দান করুন। আমিন।

সর্বশেষ - ধর্ম

ব্রেকিং নিউজ